বডি স্ক্যান মাইন্ডফুলনেস প্র্যাকটিস
বডি স্ক্যান মাইন্ডফুলনেস কি?
বডি স্ক্যান মাইন্ডফুলনেস হলো এমন একটি অনুশীলন যেখানে মনোযোগ শরীরের বিভিন্ন অংশে ধীরগতিতে চালিত করা হয়, যাতে প্রতিটি অংশ থেকে আসা সংবেদন, চিন্তা ও অনুভূতিকে বিচার না করে পর্যবেক্ষণ করা যায়। এই অভ্যাসের উদ্দেশ্য হলো বর্তমান মুহূর্তে থাকা, শরীরের সাথে সংযোগ স্থাপন করা এবং শারীরিক ও মানসিক স্বস্তি বাড়ানো।
আরো বিস্তারিত ভাবে বললে বলা যায়- বডি স্ক্যান মাইন্ডফুলনেস আসলে একটা সহজ অনুশীলন যেখানে শরীরের প্রতিটি অংশকে ধীরে ধীরে খেয়াল করা হয়। মাথার চুলের ডগা থেকে শুরু করে পায়ের আঙুল পর্যন্ত মনোযোগ নিয়ে যাওয়া হয়, আর সেই সময়ে শরীরের ভেতর কি ঘটছে সেটা শুধু লক্ষ্য করা হয়।
মানে, কোথাও টান লাগছে কিনা, কোথাও ব্যথা আছে কিনা, আবার কোথাও খুব হালকা বা আরামদায়ক লাগছে কিনা—এসবকে বদলানোর চেষ্টা না করে কেবল অনুভব করা। একরকমভাবে বলা যায়, এটা শরীরকে শান্তভাবে স্ক্যান করার মতো, কিন্তু চোখ দিয়ে নয়, মন দিয়ে।
এই প্র্যাকটিসে মন কিছুটা ধীর হয়, শরীরের টান টের পাওয়া যায়, আর ভেতরে একটা সচেতন উপস্থিতি তৈরি হয়, যা দৈনন্দিন ব্যস্ততার ভিড়ে অনেকসময় হারিয়ে যায়।
অনুশীলনের ধাপ
১. একটা শান্ত জায়গা বেছে নিন: প্রথমে একটি আরামদায়ক জায়গায় বসুন বা শুয়ে পড়ুন, যেমন একটি বিছানায় বা চেয়ারে বসতে পারেন। চোখ বন্ধ করতে পারেন, তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়।
২. শ্বাস-প্রশ্বাসে মন দিন: শরীরকে শিথিল করতে কয়েকবার গভীর শ্বাস নিন। চোখ বন্ধ করে নিজের শ্বাস-প্রশ্বাসে খেয়াল রাখুন অর্থাৎ শ্বাস গ্রহণের সময় পেট কীভাবে ফুলে উঠছে এবং শ্বাস ছাড়ার সময় কীভাবে সংকুচিত হচ্ছে, তা অনুভব করুন।
৩. শরীরের অংশগুলিতে মনোযোগ:
- মাথার উপরের অংশ থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে মনোযোগ পায়ের আঙুল পর্যন্ত নিয়ে যান।
- প্রতিটি অংশ (যেমন – মাথা, মুখ, ঘাড়, কাঁধ, হাত, বুক, পেট, পিঠ, পা, গোড়ালি, আঙুল) গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করুন।
- শরীরের প্রতিটি অংশে কোনো ধরনের অনুভূতি (যেমন – উষ্ণতা, টানটান বা ভারী বা শিথিলতা) হচ্ছে কিনা, সেদিকে মনোযোগ দিন।
প্রতিটি জায়গায় কয়েক সেকেন্ড করে সময় দিন।
৪. মনোযোগ ফিরিয়ে আনা
যদি মন অন্য কোথাও চলে যায়, তবে আলতোভাবে মনোযোগ আবার শরীরের নির্দিষ্ট অংশে ফিরিয়ে আনুন। কোনো কিছু নিয়ে বিচার করবেন না।
৫. পুরো শরীরকে অনুভব করা
যখন মনোযোগ শরীরের সমস্ত অংশে চলে আসবে, তখন পুরো শরীরকে একসঙ্গে অনুভব করুন। আপনার চারপাশের অনুভূতিগুলো এবং নিজের শরীরকে একসঙ্গে অনুভব করুন। শরীরে যাই হোক না কেন, সেটা শুধু লক্ষ্য করুন। আরাম লাগলেও, অস্বস্তি লাগলেও, কিছু পরিবর্তনের চেষ্টা না করে অনুভব করুন।
৬. অনুশীলনের সমাপ্তি
ধীরে ধীরে শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে মনোযোগ নিয়ে আসুন, তারপর হাত-পায়ের আঙুল নাড়িয়ে চোখ খুলুন এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসুন।
প্রফেসর ডঃ মোঃশাহীনুর রহমান, মনোবিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যাল


