News:

Follow us

এলএসডি: বিভ্রমের জগতে নিয়ে যাওয়া এক ক্ষতিকর মাদক

1Comments
1views

এলএসডি: বাস্তবতা থেকে সরিয়ে বিভ্রমের জগতে নিয়ে যাওয়া এক সর্বনাশা মাদক

“১৫ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্র হাফিজুর রহমানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল এলাকায় তাঁর তিন বন্ধু এলএসডি সেবন করান। এর প্রতিক্রিয়া শুরু হলে তিনি শুধু একটি শর্টস পরে সেখান থেকে বেরিয়ে যান। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে এক ডাব বিক্রেতার ভ্যানে রাখা দা নিয়ে তিনি নিজের গলায় আঘাত করেন। সুরতহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৯টা ৪০ মিনিটে অজ্ঞাতনামা হিসেবে তাঁর মৃত্যু হয়।” – সূত্র: প্রথম আলো

ড্রাগের এরকম ভয়াবহ পরিণতির কথা বাংলাদেশের মানুষ সম্ভবত এবার প্রথমবারের মতো শুনেছে। অন্যান্য ড্রাগের ছড়াছড়ি থাকলেও ডিবি পুলিশের  সূত্রমতে বাংলাদেশে এই প্রথম এলএসডি শনাক্ত হয়েছে। এই এলএসডি ড্রাগ নিয়েই আজকের লেখা।

এলএসডি (LSD), পুরোনাম লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইথ্যালামাইড (Lysergic acid Diethylamide)। তাছাড়া আরো অনেক নামে একে ডাকা হয় যেমন- অ্যাসিড, ক্যালিফোর্নিয়া সানশাইন, হিপি, লুসি ইন দ্য স্কাই উইথ ডায়মন্ডস, ইয়েলো সানশাইন, জেন ইত্যাদি। সম্ভবত সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী এবং সুপরিচিত সাইকিডেলিক বা হ্যালুসিনোজেনিক ড্রাগ হল এই এলএসডি।

হ্যালুসিনোজেনিক ড্রাগ কী?

যেসব ড্রাগ ব্যক্তির মধ্যে হ্যালুসিনেশন তৈরি করে সেগুলো হলো হ্যালুসিনোজেন বা হ্যালুসিনোজেনিক ড্রাগ। হ্যালুসিনেশন হলো একপ্রকার বিভ্রম অবস্থা যাতে ব্যক্তি চোখের সামনে বিভিন্ন দৃশ্য দেখতে পায় এবং নানারকম অদ্ভুৎ শব্দ শুনতে পায় যেগুলোর কোনো বাস্তব অস্তিত্ব নাই। হ্যালুসিনেশনের ফলে ব্যক্তির চিন্তাভাবনা, আবেগ, অনুভূতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটে যায়। হ্যালুসিনোজেনকে সাধারণত দুইভাগে ভাগ করা যায়। একটা হলো ক্লাসিক হ্যালুসিনোজেন অন্যটা হলো ডিসোসিয়েটিভ হ্যালুসিনোজেন। দুটোর মধ্যেই হ্যালুসিনেশনের উপস্থিতি থাকে তবে মাত্রা ভিন্ন হয়। এলএসডি হলো একটা ক্লাসিক হ্যালুসিনোজেন।

এলএসডি‘র উৎপত্তি হলো কিভাবে?

(ছবি উৎসঃ Albert Hofmann holds a model of an LSD molecule. Credit: NOVARTIS COMPANY ARCHIVES )

১৯৩৮ সালের ঘটনা, সুইডিশ কেমিস্ট আলবার্ট হফম্যান ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি স্যান্ডোজ(Sandoz) এ কাজ শুরু করেন এরগট নামক এক ধরণের পরজীবি ছত্রাক নিয়ে। ওষুধ হিসেবে এদের কার্যকারিতা কেমন তা জানার জন্য এদের বৈশিষ্ট্য ও স্থায়িত্ব নিয়ে কাজ করছিলেন তিনি। এক সকালে ল্যাবরেটরিতে কাজ করার সময়  কিছু সদ্য সংশ্লেষণ করা লবণ সদৃশ ক্রিস্টাল তার হাতে লেগে চামড়ার মাধ্যমে শোষিত হয়ে তার দেহে প্রবেশ করে। দুপুরের মাঝামাঝি সময়ে কাজের মাঝখানে হফম্যান হঠাৎ মাথা ঘোরা এবং অস্থির বোধ করতে শুরু করলেন। তিনি তাড়াতাড়ি  বাড়ি ফিরে গিয়ে প্রতিবেশীর কাছ থেকে কিছু পানি চেয়ে নিয়ে সেগুলো পান করে শুয়ে পড়লেন। কিন্তু তার নেশাগ্রস্তের মতো অবস্থা কাটছিলো না সাথে মস্তিষ্কের প্রতিটা নার্ভ উত্তেজিত হয়েছিলো যা কোনোভাবেই শান্ত হতে চাচ্ছিলোনা। অনেকসময় পরে আস্তে আস্তে হফম্যান প্রভাবমুক্ত হলেন। পরদিন গিয়ে নতুন বানানো ক্রিস্টালটা পরীক্ষা করে দেখলেন সেটা হলো এলএসডি-২৫। এইভাবে প্রথম এলএসডি তৈরি হয়েছিলো।

রাই বা শস্য জাতীয় উদ্ভিদের গায়ে জন্মানো এরগট নামে একধরনের পরজীবী ছত্রাক থেকে এসএলডি’র নির্যাস আসে। এই নির্যাসকে রাসায়নিকভাবে সিন্থেসাইজ বা সংশ্লেষণ করে এলএসডি তৈরি করা হয়।

এলএসডি কিভাবে কাজ করে?

প্রথমে ছোট্ট করে মস্তিষ্কের পরিচয় দেওয়া যাক। মানব শরীরের জটিলতম অঙ্গ হলো মস্তিষ্ক যেটা ৮৬ বিলিয়ন নিউরনের একটা বিশাল নেটওয়ার্ক। আমাদের চিন্তা-চেতনা, আবেগ-অনুভূতি, ব্যক্তিত্ব সব হলো এই নিউরনদের মধ্যে পারস্পরিক তথ্য আদান-প্রদান ও ক্রিয়া-বিক্রিয়ার ফলাফল। নিউরনের এসব ক্রিয়া-বিক্রিয়ায় কিছু রাসায়নিক উপাদান গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে যেগুলোকে বলা হয় নিউরোট্রান্সমিটার (Neurotransmitter)। এরকম গুরুত্বপূর্ণ একটি নিউরোট্রান্সমিটার হলো সেরোটোনিন (Serotonin)। সেরোটোনিন আচরণগত, উপলব্ধিমূলক এবং মেজাজ, সংবেদনশীল উপলব্ধি, ক্ষুধা, শরীরের তাপমাত্রা এবং যৌন আচরণ নিয়ন্ত্রণের সাথে জড়িত থাকে।

এলএসডি কিভাবে কাজ করে সেটা সম্পর্কে পুরোপুরি জানা যায়না তবে ধারণা করা হয় শরীরে প্রবেশ করার পর সেরোটোনিন রিসেপ্টরের (Serotonin Receptor) সাথে বন্ধন তৈরি করে সেরোটোনিনের কাজের ধরণ বদলে দেয়। যতোক্ষণ এলএসডি সক্রিয় থাকে ততোক্ষণ সেরোটোনিন কাজের নিজস্ব প্যাটার্ন বাদ দিয়ে ড্রাগের কার্যকারিতাকেই অনুসরণ করতে থাকে। ফলে ব্যক্তির মধ্যে হ্যালুসিনেশন  তৈরি হয়। কেমন ডোজ নেওয়া হচ্ছে তার উপর ভিত্তি করে এলএসডি শরীরে সক্রিয় থাকে। এই ড্রাগ নেওয়ার ৩০-৯০ মিনিটের মধ্যে এর প্রতিক্রিয়া শুরু হয় এবং ১২ঘন্টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়। অতিরিক্ত ডোজ নিলে স্থায়ীত্ব এবং তীব্রতার পরিমাণও বাড়ে। এতে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে ও পৃথকভাবে কাজ করতে থাকে। আপাতদৃষ্টিতে তখন মস্তিষ্ককে খুব বেশি সক্রিয় মনে হলেও এর বিভিন্ন অংশ নিস্ক্রিয় হতে থাকে।

এলএসডি‘র প্রভাব কেমন হতে পারে?

শরীরের চেয়ে মনের উপর এই ড্রাগ মারাত্মক প্রভাব ফেলে। চোখের প্রসারণ, অসাড়তা, ঘাম হওয়া আর ক্ষুধামন্দা ইত্যাদি কিছু শারীরিক উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে এর মানসিক প্রভাব অত্যন্ত শক্তিশালী। যখন এর প্রতিক্রিয়া শুরু হয় তখন প্রথম দুইটা গুরুতর লক্ষণ হলো ‘ভিজ্যুয়াল হ্যালুসিনেশন’ (কোনো বস্তুর বাহ্যিক উপস্থিতি ছাড়াও বস্তুটিকে স্পষ্ট চোখের সামনে দেখতে পাওয়া) এবং ‘ইল্যুশন’ (বাস্তবতা সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি করা)। প্রতিক্রিয়া শুরুর পর এরকম অভিজ্ঞতার ভিতর দিয়ে যাওয়াকে বলা হয় ‘ট্রিপ’।

এই ড্রাগ কারো কারো ক্ষেত্রে সাময়িক ভালো অনুভূতি তৈরি করে থাকে যেটাকে বলা হয় ‘গুড ট্রিপ’। যেমন-মেজাজ ফুরফুরে লাগা, কয়েকদিন বেশ উচ্ছাসিত থাকা, আধ্যাত্মিকভাবে নিজেকে সমৃদ্ধ ভাবতে থাকা ইত্যাদি। আবার কারো ক্ষেত্রে খুব খারাপ অনুভূতি তৈরি করে থাকে যেমন-অযৌক্তিক ভয়, উদ্বেগ, আতঙ্ক, প্যারানয়া, ভয়, অবিশ্বাস, নিরাশা, এমনকি আত্মহত্যার ধারণার মতো ভয়াবহ আবেগ জাগিয়ে তোলে। এই ধরনের অনুভূতিকে বলা হয় ‘ব্যাড ট্রিপ’। ড্রাগ নেওয়ার পর ব্যক্তির অভিজ্ঞতা গুড ট্রিপ হবে নাকি ব্যাড ট্রিপ হবে সেটা একেবারেই আনপ্রেডিক্টেবল বা অনুমানের অতীত।

ব্যক্তি কেমন অনুভব করবে সেটা নির্ভর করে তার ‘সেট’ এবং ‘সেটিং’ এর উপর। সেট হলো ড্রাগের প্রতি একজন ব্যক্তির পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা এবং মানসিকতা। সেটিং হলো তাদের সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক প্রত্যাশার পাশাপাশি ড্রাগ গ্রহণের সময় তাদের শারীরিক পরিবেশ। একই ব্যক্তির ক্ষেত্রে একটি হ্যালুসিনোজেনিক ড্রাগ সম্পর্কে খুব আলাদা অভিজ্ঞতা হবে যদি সে এটি বন্ধুদের সাথে একটি পার্টিতে নেয় এবং যদি নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া কোনো দুর্ঘটনার পর এটি সে একা নেয়।

এলএসডি’র দুটি উল্লেখযোগ্য ক্ষতিকর প্রভাবের মধ্যে একটি হলো এই ‘ব্যাড ট্রিপ’ (খারাপ অনুভূতি তৈরি করা)  এবং অন্যটি হলো ‘ফ্ল্যাশব্যাক’। ফ্ল্যাশব্যাক হলো একটা মনস্তাত্ত্বিক ঘটনা। বিভিন্ন হ্যালুসিনোজেনিক ড্রাগ বিশেষ করে এলএসডি নেওয়ার ১২-২০ ঘন্টা বা কয়েকদিন পর এর প্রভাব কেটে যায়। কিন্তু ছয়মাস বা একবছর পর আবার হঠাৎ করে ব্যক্তির মধ্যে ড্রাগের প্রতিক্রিয়া শুরু হয়ে যেতে পারে। এতে ব্যক্তির পূর্ব অভিজ্ঞতার বিভিন্ন ভালো বা খারাপ ঘটনা বারবার ফিরে আসতে থাকে এবং পুনরায় বিভ্রম তৈরি হতে পারে। ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিকাল ম্যানুয়াল অব মেন্টাল ডিসঅর্ডারে (DSM-IV) এই অবস্থাকে এইচপিপিডি (HPPD-Hallucinogen Persisting Perception Disorder) নামে অভিহিত করেছে। এই এইচপিপিডি’র তীব্রতা খুব বেশি না হলেও বারবার এর ফ্ল্যাশব্যাক ব্যক্তির দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করতে পারে।

বিভিন্ন গবেষণা থেকে দেখা যায়, দুয়েকটা দূর্লভ ঘটনা ছাড়া এলএসডি গ্রহণ করা ব্যক্তির মধ্যে আত্মহত্যা প্রবণতা খুব একটা দেখা যায়না। তবে ঘটনা ঘটে অন্যভাবে। যখন হ্যালুসিনেশন শুরু হয় তখন ব্যক্তির মধ্যে স্থান কালের বোধ লোপ পায়। সে নিজেকে প্রচন্ড শক্তিশালী আর স্বাধীন ভাবতে থাকে। ফলে ছাদ বা খোলা জানালা দেখে উড়তে পারবে মনে করে হাত-পা বাড়িয়ে দেয় কিংবা ব্যস্ত মহাসড়কের মধ্যে কিছু নেই ভেবে চলাচল শুরু করে দেয়। আর দূর্ঘটনাগুলো তখনই ঘটে যায়।

এলএসডি‘র ব্যবহার এবং অপব্যবহার 

স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন আসতে পারে, হফম্যান নিজের উপর বিরূপ প্রভাব দেখেও কেন এই ড্রাগ পুনরায় প্রক্রিয়াজাত করেছিলো? হফম্যান পরে আরো পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ধারণা করেছিলেন এই ড্রাগটি বিভিন্ন মানসিক সমস্যা বিশেষ করে বিভিন্ন সাইকোটিক ডিজঅর্ডার, সিজোফ্রেনিয়া, পিটিএসডি’র মতো সমস্যায় আশার আলো দেখাতে পারে এবং কিছু পরীক্ষায় তার ফলাফলও মিলেছে।

এরপর ওষুধ হিসেবে স্বল্পমাত্রার এলএসডি ডোজের ব্যবহার শুরু হয়। ইউরোপীয় সাইকোথেরাপি ক্লিনিকে ‘সাইকোলাইটিক থেরাপি’ নামে একটি পদ্ধতিতে এলএসডি ব্যবহার করা হতো। এই থেরাপির লক্ষ্য ছিলো মানুষের মানসিকতায় উত্তেজনা বা দ্বন্দ্বের বিলুপ্তি ঘটানো। থেরাপির কিছু নির্ধারিত সেশনে ক্লায়েন্টকে অল্পপরিমাণ এলএসডি দেওয়া হতো। এটি নেওয়ার পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে ক্লায়েন্টেদের কিছু কাজ দেওয়া হতো। কাজগুলো ছিলো তাদের যে হ্যালুসিনেশন হচ্ছে সেখানে কি দেখতে পাচ্ছে সেগুলোর ছবি আঁকা কিংবা ক্লে দিয়ে সেগুলো তৈরি করার চেষ্টা করা। আঁকা কিংবা বানানো শেষ হলে ক্লায়েন্ট এবং তার থেরাপিস্ট তৈরিকৃত জিনিসগুলোর যৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা করতো।

‘সাইকিডেলিক থেরাপি’ নামে আরেকটি পদ্ধতিতে এলএসডি ব্যবহার করা হতো। সাইকিডেলিক মানে হলো ‘মন-প্রকাশ’ বা ‘মন প্রসারিত করা’। এ থেরাপিতে রোগীদের নিবিড় মনস্তাত্ত্বিক প্রস্তুতির পরে তাদের ব্যক্তিত্বের সমস্যাগুলো পুনর্গঠন এবং নিরাময়ের জন্য এলএসডি’র একটি স্বাভাবিক ডোজ দেওয়া হতো।

তাছাড়া মনোরোগের জন্য একটি মডেল হিসাবে এবং ক্যান্সারের সাথে যুক্ত গুরুতর ব্যথার চিকিৎসা হিসাবে ব্যবহারের জন্যও এলএসডি’র কার্যকারিতা বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করা হয়েছিলো।

এরপর কিছুদিন যেতে না যেতেই এলএসডি’র আসল ব্যবহার থেকে সরে মানুষজন একে রিকরিয়েশনাল ড্রাগ হিসেবে নিতে শুরু করলো এবং একে ঘিরে কিছু মিথ গড়ে উঠলো। মানুষে বিশ্বাস করতে লাগলো যে, এটি ভালবাসা এবং শান্তি ছড়িয়ে দেয়, প্রাচীন এবং অত্যাচারী সামাজিক শ্রেণীবিন্যাস ভেঙে দেয়, সৃজনশীলতা বাড়িয়ে দেয় ইত্যাদি। অনেক শুভবুদ্ধিসম্পন্ন এবং খ্যাতিমান মানুষজনও এলএসডি ব্যবহারে উদ্ধুদ্ধ হয়েছিলেন সেসময়। ফলে ১৯৬০ সালের দিকে এলএসডি বেশ জনপ্রিয়তা পায় এবং লোকজন সতর্কতা ছাড়াই এর ব্যবহার শুরু করে দেয়। কিন্তু ১৯৬০ সালের শেষের দিকে এসে এলএসডি’র বিপজ্জনক দিকটি প্রকাশিত হয়। দুর্ঘটনা, মানসিক ভাঙ্গন, অপরাধমূলক কাজ, হত্যা এবং আত্মহত্যার খবর পাওয়া যেতে থাকে সেই সাথে ড্রাগের প্রতি মানসিক প্রতিক্রিয়ার ফলে এলএসডি সম্পর্কে সামাজিক হিস্টিরিয়া দেখা দিতে থাকে। এই ভয়াবহ রূপ দেখে স্যান্ডোজ ১৯৬৫ সালে এলএসডি উৎপাদন ও বিতরণ বন্ধ করে দেয় এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা থেরাপিতে এর ব্যবহার পরিত্যাগ করেন। চূড়ান্তভাবে ১৯৬৮ সালে বিশ্বব্যাপী এই ড্রাগ নিষিদ্ধ করা হয়।

লেখকঃ আসমা ইসলাম, ৪র্থ বর্ষ, মনোবিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। Email: [email protected]

তথ্যসূত্র :

https://www.drugabuse.gov/publications/drugfacts/hallucinogens

https://www.verywellmind.com/what-is-acid-22089

 

One Response

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Search