কর্মক্ষেত্রে ৮টি আচরণ এড়িয়ে চলুন

Spread the love

কর্ম ক্ষেত্রে ছোট ছোট কিছু আচরণ যেগুলো আপনার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারনা তৈরি করে। অথচ একটু খেয়াল করলেই আপনি সেগুলো কে এড়িয়ে চলে একজন আদর্শ সহকর্মী হতে পারেন। চলুন জেনে নেয়া সেই নেতিবাচক আচরণ গুলো।

১। গল্পগুজবঃ বিখ্যাত লেখক ও ব্যবসায়িক বক্তা পিটার ভ্যজদাবলেন কর্ম ক্ষেত্রে গল্পগুজব কর্ম সহিংসতার সামিল। গল্পগুজব অফিসের সুস্থ পরিবেশর জন্য খুবই ক্ষতিকর। সাধারণত যাদের সেলফ ইস্টিম কম তারা অন্যদের কাছে নিজেকে প্রিয় করতে গল্পগুজব করে থাকে। তাই অফিস সময়ে সহকর্মীদের সাথে অযথা গল্পগুজব এড়িয়ে চলুন। গল্প করতে হলে অফিসের নির্দিষ্ট সময় পরে, খাবারের সময় কিংবা চা পানের বিরতিতে গল্পগুজব করতে পারেন।  

২। সাফল্য প্রচারঃ  নিজের সাফল্য সম্পর্কে সহকর্মীদের যতটা সম্ভব কম বলা যায় ততই ভাল। অনেকে একটা সমস্যা সমাধান করে এতটাই আনন্দিত হয়ে পরে যে তা সহকর্মীদের না জানিয়ে থাকতে পারে না। কিন্ত, এই খুশি অনেক সময় অন্যদের অস্বস্থিতে ফেলে দিতে পারে। তাই, এধরনের সাফল্যে সবাইকে না জানিয়ে সাফল্যর নৃত্য নিজের মধ্যই রাখুন।  

৩। আক্রমণাত্মক আচরনঃ কর্মক্ষেত্রে আগ্রাসী আচরণ খুবই বিপদ জনক। এটা একদিকে যেমন কর্ম  ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, অন্যদিকে অফিসের সুনাম ক্ষুণ্ণ করে। এমনকি এই আক্রমণাত্মক আচরণ অনেক সময় সহিংসতারও জন্ম দেয়। তাই, কর্মক্ষেত্রে আক্রমণাত্মক আচরণ এড়িয়ে চলুন। কোন কারণে ক্রোধের উদ্রেক হলে তা সংবরণ করুন, ধর্য্য ধরুন নতুবা চুপ থাকুন। রাগ সংবরণ করতে না পারলে তা ইতিবাচক ভাবে মোকাবেলা করুন। কাউকে আঘাত দিয়ে কথা বলা থেকে বিরত থাকুন।     

৪। অন্যর কাজের স্বীকৃতিঃ অন্যর কাজের সাফল্য কিংবা অর্জনকে নিজের বলে চালিয়ে না দেয়া। মান অনুযায়ী অধিনস্ত কিংবা দলের সহকর্মীর কাজের যথাযথ স্বীকৃতি দিন। কাজের যথাযথ স্বীকৃতি না পেলে সহকর্মীদের মধ্য হতাশার জন্ম হয় যা সম্পর্কের অবনতি ও কর্মে উৎসাহ কমিয়ে দেয়।  

৫। ব্যক্তিগত কাজঃ অফিসে ব্যক্তিগত কাজকর্ম না করাই ভাল। তাছাড়া অফিসিয়াল সুযোগ সুবিধা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার না করা শ্রেয়। সবসময় ব্যক্তি জীবন ও কর্মজীবন আলাদা রাখা রাখুন।

৬। ফোনের ব্যবহারঃ অফিসে ফোন ব্যবহারে একটু সতর্ক থাকুন। ফোন ব্যবহারে অফিসিয়াল কোন নিয়ম থাকলে তা মেনে চলুন। তাছাড়া মিটিং, দলগত আলোচনা, উপস্থাপনা, বক্তৃতা দেয়ার সময় একটু বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করুন। অফিস সময়ে বার বার ব্যক্তিগত এবং দীর্ঘ ফোনালাপ থেকে বিরত থাকুন।

৭। অলসতাঃ সবসময় অফিসে দেরি করে আসা, মিটিং এ সঠিক সময়ে উপস্থিত না থাকা এবং অর্পিত কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্য শেষ না আচরণগুলো আজই বদলে ফেলুন। এই আচরণগুলো আপনার জন্য মোটেও সুখকর নয়।   

৮। সঠিক কথাঃ অফিসে অসুস্থ না হয়েও অনেকে অসুস্থ্যতার কথা বলে থাকি, কাজ শেষ না করেও শেষ হয়েছে বলি। এধরনের কথা বলা আপনার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারনা তৈরি করে। তাই, এধরনের কথা বলা থেকে বিরত থাকুন ও প্রয়োজনে সঠিক কথাটিই বলুন।

পরিশেষে তাই বলা যায়, অফিসে গল্পগুজব, আক্রমনাত্মক আচরণ, ব্যক্তিগত কাজ, ফোনের ব্যবহার থেকে বিরত থেকে, নিজ কাজের সাফল্য প্রচার না করে, সময়মত অফিসে এসে এবং সঠিক কথা বলে একজন ভাল সহকর্মী হতে পারি।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.